রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০০৯

ঘটেনি কিন্তু ঘটতে পারতো

ঘটেনি কিন্তু ঘটতে পারতো

বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধনবান ব্যক্তিটিকে
যখনি দেখতে চাওয়া হ’লো, -আমি উঠে দাঁড়ালাম,
নিজেকে মেলে ধ’রে বল্লাম, -‘এই যে এখানে আমি।’-
সভাপতি বললেন,‘--মেনে নিলাম,
---তবে, -কোনো আপত্তি না-এলে --।’
প্রধান অতিথি বল্লেন, --‘প্র-মা-ণ--চাই ----।’
সমবেত সুধীমণ্ডলী সমস্বরে বললেন,‘-ভেঙ্গে ভেঙ্গে
দেখিয়ে না-দিলে, --মানা হবে না।’
(অকাট্য প্রমাণ সম্মুখে দাঁড়ানো, -তার পরও !--
-কেটে-চিড়ে প্রমাণ করতে বলা !--
--এ-যে দেখি, --মহাজ্বালা !!--)
ধ’রে নিলাম ওটা ছিলো মানুষের আদালত ॥
(--নিঃসন্দেহে, -বিচারকের নিরপেক্ষতার উপর
ঘৃণ্য প্রভাব খাটানোর অধিকার কারো নেই। )
--‘প্রমাণ-চাই-প্রমাণ-চাই’ উচ্চারণের দাবিতে
গ্রেফতার হলাম।
-উপস্থিত কেউ আমার পক্ষে সাক্ষ্য দিলো না ॥
অতএব, -মুক্ত হবার চেষ্টায়, -তক্ষুনি সেখানে
তাজা দলিল প’ড়ে শোনাতে বাধ্য হলাম।
(--কেউ কেউ, -নীরবে, --দেখেও নিলেন
আমার জ্যান্ত দলিলখানা ॥)
*--যারা সেদিন ছিলেন এবং
আজও এসেছেন, -দয়া করে পচা ডিমগুলো
সঙ্গে রেখে দিন, -আমাকে একা পেলে ছুড়বেন।
-স্বেচ্ছা নির্বাসনের একাকিত্বের যন্ত্রণার চে’,--
পচা ডিমের ঢিল বহু বহু গুণে শ্রেয়ঃ,---
----সদানন্দে কাম্য ॥*
আমি যা’শোনাতে চেয়েছিলাম, -সে’রকম-ই কিছু,-
সাধ্যমতো সংক্ষেপে বলার চেষ্টা করবো, -এখানে,
কে কী বুঝবেন জানি না, -আমি সেদিন
ঐ সমাবেশে পড়েছিলাম জ্যান্ত দলিলখানা ॥
--আমি বলেছিলাম, --তাকিয়ে দেখুন,
--তাকিয়ে দেখুন আমার চোখ-দু’টোর দিকে;
--হয়তো বা মনে হবে এই দু’টো চোখ,-
--এ-জোড়া মনে হবে ঠিক্ যেন,--
--অবিকল সেই দু’টো চোখ!
--গতশীতে পাথরিচুনে পানি ঢেলে টগবগি
দেখছিলাম অনিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ;
-ছিট্কে আসা ফুটন্ত তরল চুনের ঝাপটায়
কৌতূহলের খেসারতের মূল্যে হারাতে হয়েছিলো
বিনামূল্যে পাওয়া অমূল্য দু’টো চোখ।
-জ্বলে ফুটে থলথলে মাঁজা মুখমণ্ডলে গড়ালো।
--বিনাশ্রমে প্রাপ্ত, অযত্নে অসুস্থ,-
উগ্র দু’টো চোখ চুপসে গ্যালো।
--দাঁতে দাঁত খিঁচে, -যন্ত্রণা যা’হোক
কিছুটা সহ্য করা গ্যালো,-
---কিন্তু ! -স্থির অন্ধত্ব, -যেন অসহ্য মনে হচ্ছিলো ॥
চিকিৎসায়-নিরাময়-অযোগ্য অন্ধ-দশাতেও,-
-গোঁয়ার দখলদার আমি থেমে যাইনি, ফিরে আসিনি ;-
--সমগ্র প্রশান্ত মহাসমুদ্রের দখল একাই ভোগ করছিলাম।
প্রস্তাব এলো,‘-দখল ছেড়ে দিলে,
--দু’টো তাজা চোখ, কিছুটা দুর্বল হ’লেও,
--অনেকটা আগের দু’টোর-ই মতো,
--দু’টো জ্যান্ত প্রাণবন্ত চোখ পাওয়া যাবে,
-যদি চাই তো, --এক জোড়া চশমা
এবং একটা দূরবীণও পাওয়া যাবে সাথে,’--
-প্রস্তাবটা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মেনে নিলাম।
অস্থায়ী চুক্তি,-‘যেকোনো সময়ে যেকোনো পক্ষের
ভেঙ্গে ফেলবার স্বাধীন অধিকার সংরক্ষিত,’-
--সহজ সরল ঐ প্রস্তাবটা,-
কোনো বুদ্ধির তর্কে না-গিয়েই মেনে নিলাম।
-মেনে নিতেই হ’লো, --ঠেকানো গেলো না!
লাগাতার বেহিসেবি শ্রম-শক্তি-বল ক্ষয় ক’রে, -ঘরে বাইরে
সবখানে চাতুরী চালিয়ে, -উল্টোপাল্টা বুঝিয়ে সুঝিয়ে
ভুলিয়ে ভালিয়ে জটলা পাকিয়ে প্যাঁচিয়ে
সকলের অধিকার একাই ভোগ করছিলাম।
-অন্ধত্বের ফাঁদে পড়ে,
(-মহাশত্রুর জন্যেও যা’ কাম্য নয় )
দু’টো দুর্বল চোখের বিনিময়ে, -বাধ্য হ’য়ে,
-ছেড়ে দিতে হ’লো, --আমার তীব্র আকাঙ্ক্ষার
অস্থায়ী অর্জন, --কূটকৌশলে অর্জিত
অ-স্থির প্রশান্তের দখল ধ’রে রাখা গ্যালো না !!
-ওটা না-থাকলে বিনিময় সম্ভব হ’তো কি-না জানি না ;
--জানি না, -প্রস্তাবটা মেনে নিয়ে ঠকেছি কি-না,-
-----বোধ’য় ঠকিনি --॥
এখন আমি এই চোখ দুটো দিয়ে, -সকলের ভিড়ে
নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে, -একান্তে অবসরে,
-ভাসমান জাহাজ, ডাইভিং তিমি,
-খেলায় মত্ত ডলফিন, গতিময় হিমবাহ, ছন্দময় ঢেউ,
-ফেনার আন্দোলিত বিচিত্র সব অফুরন্ত নেশাজাগানো
মোহনিয়া দৃশ্য উপভোগ করি ॥
এরও কিছুকাল আগে,--
-বছরটা মনে নেই, --কোনো এক বসন্তের মধ্যভাগে,
--নর্দমায় নাক ডুবিয়ে ডুবিয়ে,---
-‘জ্বালাময় ভেনাস’-এর তীব্রগন্ধ শুকতে শুকতে শুকতে
নেশার ঘোরে নক্ষত্রের ঘ্রাণ নিতে গেলাম।
-ঝলসে গেলো, -জন্মসূত্রে প্রাপ্ত নাকটা ঝলসে গ্যালো।
-এখন যেটা দেখছেন, -এ-ই নাকটা,
-এটা চড়ামূল্যে অর্জিত, -তবে, -ততখানি চাঙ্গা নয় ;
-মাঝারি মাপের সাধারণ কাজগুলো, -সহজে,-
--মোটামুটি সহজেই চালিয়ে নেওয়া যায়।
-কুয়াশারও যে এক ধরণের ঘ্রাণ আছে, -অনেকটা,--
-ধনের খড় বা পোঁয়াল পোড়া ধোঁয়ার গন্ধের মতো,
-কিম্বা, -শরিফা বা আতাফুলের গন্ধ যে পাকা-কলার
ঘ্রাণের মতো, -তা’ বুঝতে বেগ পেতে হ’লো না ;
-‘বিনিময়ে ফিরে পাওয়া’ দুর্বল এ-নাকটা দিয়েই
সহজে আঁচ করা গ্যালো এবং বুঝলাম যে,
-সুস্থ একটা নাকের বিনিময়ে ইউরোপা’র দখল
ছেড়ে দেওয়া আহাম্মকি হয়নি ॥
সামসময়িক, আগে অথবা পরে,-
-যে’ সত্য ঘটনাটা প্রবাদ হ’য়ে হ’য়ে
আজও মুখে মুখে ফেরে,
-সেই অনিরপেক্ষ পক্ষপাতিত্বের কাজে এবং
মানুষে মানুষে কোন্দল কামনাকারীর কাজে ব্যবহৃত,
-পক্ষাঘাতগ্রস্ত দেহটার রুগ্ন-অর্ধাঙ্গের
সুস্থতা ফিরে পেলাম !!---
--ফিরে পেলাম, -আফ্রিকার দখল ছেড়ে দিয়ে ॥
অন্তত একটিবার আপনাদের অমূল্য চোখে দেখুন
--বিচারকের নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেখুন,--
-‘বকবক বকবক বুলিধারী খাদক’ এই মুখটা বাদ দিয়ে,
-এ-ই দেহে, -ধনবান এই মানুষটার দেহে এখন
যা’কিছু দেখছেন, -মনে হওয়া অস্বাভাবিক নয়,-
যা’কিছু জীবন্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গ, -যদিও মনে হবে,
--অবিকল আগের মতোই,
--আসলে, --সবগুলোই দুর্বল, -ও-ই যেমন,
-ঐ যে, -যেমন বলা হয় ! --বলা হয় না ?--
যেমন বলা হয় রিকাণ্ডিশান,-
-একেবারে আমূল পরিবর্তন কিম্বা পুনঃসংস্থাপন,--(?)
মুখ বাদ দিলে, -বাদবাকি সমস্ত দেহটাই অতিসাধারণ ॥

এ-ই কাহিনীর আগের অঙ্গগুলো,
---কোনটা কিভাবে নষ্ট হয়েছিলো
সংক্ষেপে জানতে চাইলে বলবো,-
-কোনোটা হারিয়েছিলাম অহংকার প্রদর্শনে,
-কোনোটা অবহেলায়, -কোনোটা অসাবধানে,
-কোনোটা সদম্ভে সজ্ঞানে সাধ্যের সীমা
অতিক্রমের চেষ্টার কারণে,
-কোনোটা অলসতায়, কোনোটা অত্যধিক ব্যবহারে।
--মোটকথা, -নিজের উপর ঘৃণ্য, অশ্লীল,
-অমানুষিক অত্যাচারে ॥
ভোগের তালিকার একচ্ছত্র দখলগুলো
ছেড়ে দিয়ে দিয়ে এক একটা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ে নিয়ে
হেলে দুলে বহন করছি দেহটাকে নিজের ইচ্ছেমতো,
-আজও বহন করছি শ্রেষ্ঠ ধনবান
দুর্বল এ-ই মানবদেহটাকে ॥
মুচকি হাসি হেসে প্রধান বিচারক বললেন,-
-‘-তুমি তো হে, -সব হারিয়ে নিঃস্ব এখন,
অথচ নিঃসংকোচে নিজেকে
শ্রেষ্ঠ ধনবান ব’লে দাবি কোরছো !!--
--প্যাঁচানো সংযোগগুলো জায়গামতো
--ঠিক্ ঠিক্ আছে তো -?
--কী-সব যা’ তা’ প্রলাপ বকছো !?-’
বল্লাম,-‘-মাননীয় সভাপতি,---
-আলাপ তো একটাই,-এ-ই আছে এ-ই নাই !
--শুরুতে যা’, -শেষেও তা’-ই !
--তার-ই প্রতিধ্বনিতে, -যতকিছু উচ্চারিত হ’চ্ছে,
উচ্চারিত হয়েছিলো এবং উচ্চারিত হ’তে থাকবে,
-সবই বাহুল্য, -সবই তো প্রলাপ;
--তাছাড়া, -প্রতিদান হিসেবে পাওয়া
দুর্বল এ কণ্ঠখানা থেকে
প্রলাপ বের হওয়াই তো স্বাভাবিক।
--বাহুল্য প্রলাপের চে’ বেশি কিছু দাবি করা,
-সর্বমান্য মাননীয় বিচারকের কি উচিত হ’চ্ছে!?’
সুধী সমাবেশের বিশেষ অতিথি বললেন,‘পা-গোল’-।
--‘ক্ষমা করো ! ক্ষমা করো !!’, -বল্লাম,
-‘মাফ করবেন, -আমার পা দু’টো গোল নয়।
আমাকে আহাম্মক বললেও আপত্তি নেই।
-অন্যকে জানি না, -তবে আমি সাধারণ জ্ঞানে
--অন্যকে পাগল ভাবি না,--
দয়া ক’রে অন্তত আমাকে পাগল বলবেন না; --তবে,-
বলতে পারেন,-
মাথাটা যিনি বানানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন,
-মানুষের মতো সুন্দরতম আকৃতির ছাঁচে, -ঐ ছাঁচটা !
-অতুলনীয় যে ছাঁচটা স্বাতন্ত্র্যে বিচিত্রতম,--
-সেটাও নিখুঁত নির্ভুল বৃত্তাকার কিম্বা গোলকাকার নয়।
বলতে পারেন, -অনির্ভুল গোলক আকৃতির পাত্রটিকে
সৃষ্ট এই মহাজগতের শ্রেষ্ঠতম মস্তিষ্ক বা ঘিলু
ধারণ করবার উপযোগী ক’রেই গঠন করা হয়।
অদৃশ্য বিমূর্ত বোধন, চিন্তন, চাহিদা, পরিকল্পনা,-
--ইত্যাদির ধারক জ্যান্ত মূর্ত এই মগজটাও ইদানিং
আগের মতো তেমন ব্যস্ত নয়,
-কারণ, --আমার শেষের বিনিময়টা হয়েছিলো
অস্থির মেধাটার সঙ্গে।
-আমার অধীনস্ত হিসেবে সৃষ্ট মহাজগতটাকে
অবাস্তব বাসনায় একাই ভোগ করতে গিয়ে,
-তালগোল প্যাঁচিয়ে পাকিয়ে, -মগজ মেধা এমন-ই
বিগড়ে গেলো যে, --যেন পিপীলিকা পাখা পেলো ;
--তুচ্ছতার হতাশায় জঘন্য আত্মঘাতি প্রবণতা
তীব্রভাবে চাড়া দিলো ;
--‘চিকিৎসা কলা’-র প্রচলিত অষুধ সেবন
ব্যর্থ প্রমাণিত হ’লো এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ এলো, -
-‘ভোগের পরিবর্তে উপভোগের চেষ্টা করো।’
-‘ভোগ’ ছেড়ে দিয়ে দিয়ে বিনিময়ে পেলাম ‘অফুরন্ত উপভোগ’।
--মাননীয় সভাপতি, --এখনো কি বলবেন যে,
--আমি শ্রেষ্ঠতম ধনবান ব্যক্তিটি নই -!?!?
-সভাপতি সংক্ষেপে,-‘বলবোনা’ ব’লে সমবেত
সুধীমণ্ডলীর দিকে তাকালেন ॥
সভাশেষে,-‘বলবো না বলবো না’ উচ্চারণরত রসিক সুধীমণ্ডলী,-
নীরস ‘নীরব বলবো না’ গোত্রের শ্রোতৃমণ্ডলী, -দাঁড়ালেন,
-সকলে আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন এবং ধীরে ধীরে
জোড়ে-বিজোড়ে, দলে দলে, একা একা,--
ফিরে গেলেন নিজ নিজ আগমন পথ ধ’রে ধ’রে,-
আর আমি,--নিঃসঙ্গ আমি,
-আমি বেরোলাম আমার জীবিকার সন্ধানে ॥
জীবিকার তালে তালে
উপভোগ্য জীবনটাকে সঙ্গী ক’রে, -ঘরে বাইরে
--হেসে খেলে বেড়ালাম,
আর, -বিশ্রামের ফাঁকে ফাঁকে, -সেদিনের সেই
সভাপতির ‘বলবো না’-র অর্থ জনে জনে খুঁজলাম।
-দু’ধরণের জবাব পেয়েছি, -এবং একটা জিজ্ঞাসা,--
-একটা অভিন্ন জিজ্ঞাসা এসেছে হারানো দাঁতটা নিয়ে।
-উপরের পাটির একটা দাঁত, -যেটিকে হারিয়েছি,
-আমার আগ্রাসী আধিপত্যের শেষ দখলটা
ছেড়ে দেবার পর, --যখন কোনো পর্বতমালা
ছিলো না আমার দাঁতের বিনিময়ে দেওয়ার মতো ;-
-কিম্বা, ছিলো না কোনো ‘সর্বজনের সম্পদ’, -যেমন,
-কোনো জলপ্রপাত ; সমুদ্র সৈকত ; বাজার-হাট ;
-কোনো মাদকাসক্ত যুবক ; শপথ-স্বীকারোক্তির ঘর ;
-কোনো গবেষণাগার ; কোনো তীর্থস্থান, -ছিলো না,
-কোনোটাই ছিলো না আমার একচ্ছত্র ব্যক্তিগত
ভোগের দখলে এবং যখন আমি শ্রমজীবী,
-আমি সকলের সাথে সম্মানিত সহজীবী একজন,
-সাধ্যমতো উপার্জনে-ভোগে-উপভোগে,--
যখন আমি পরমানন্দে চলমান ॥
দান, দক্ষিণা, অনুদান অথবা চাঁদার নামে
একটা জীবন্ত দাঁত চাইলাম।
কোনো মানুষই, -বাস্তব বিধানে
মানুষকে ভিক্ষুক হ’তে দেন না ;
তাই, -সসম্মানে উপার্জন থেকে কেটে কেটে নিয়ে
সঞ্চয় করি গোপনে গোপনে ॥
অমন একটা মজবুত দাঁতও যে আমার
অট্টহাসির ধাক্কায় নড়বড়ে হ’য়ে কখনো
খ’সে পড়তে পারে, -এ জ্ঞানটুকু ছিলো না।
অস্বীকার করবার কোনো উপায় নেই যে,-
--আপনাদের দাঁতগুলো সত্যি-ই সুন্দর।
আমি সাক্ষ্য দিতে বাধ্য,
-বাঁকা ত্যাড়াগুলো বেশি মজবুত
এবং এখনো যেগুলো জায়গামতোই আছে,--
ওগুলো অমূল্য, -অবিনিমেয়।
নিঃসন্দেহে ধনবানরাই সত্য সাক্ষী, -আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি,
-নির্ভেজাল পবিত্র সব অবাধ্য হাসিগুলো দারুণ দর্শনীয় !!
ভিক্ষুক হ’তে দেননি আমাকে,
-সে-জন্যে ধনবান এ কৃতজ্ঞের পক্ষ থেকে,
-প্রকাশ্যে আড়ালে সর্বত্র সর্বকালে
ধন্যবাদ পৌঁছে যাক আত্মসম্মানধারীদের ভিতরে ॥
এখানে বলতে চাই,
-অন্যের ক্ষতি কেউ করতে পারে না,
এবং আমিও করিনি কারো।
-তা’-ই যদি হয়, -কী-এমন রেখেছি গোপন আমি,
-আপনাদেরই সহযোগী, সহজীবী, পাশাপাশি থাকি,-
অথচ ! -সতর্কবাণী পাই না !?
-আধিপত্যের অন্ধমোহে
কাঙ্গাল কৃপণ নিকটজনও সদোপদেশ দেন না ;
-আগেভাগে ধমকিয়ে সাবধান ক’রে দিলে
অমূল্য দাঁতটা হয়তো বা যেতো না --॥
কারো প্রতি আজ আর নেই কোনো অভিযোগ,-
-নেই কিছু জিজ্ঞাসার।
-দাঁতের নীরস কাহিনী, -ধনবানদের ঘরে ঘরে
নগদে কিম্বা বাকিতে বিক্রী ক’রে ক’রে
জমানো অর্থের বিনিময়ে
একটা জীবন্ত দাঁত ফিরে পেতে চাই।
--যদি কখনো পাই হয়তো বা আবারও দেখা হবে।
তখন আপনারা আমাকে গালিয়ে,
-ইচ্ছেমতো ছাঁচে ঢেলে, -অথবা,
আচ্ছামতো হাতুড়িপেটা ক’রে, -আমারে,
আমার এ-লম্বা পা গোল ক’রে দিয়ে,
যাবজ্জীবন কয়েদীর প্রাপ্যটুকুসহ হাতে একটা
কেরানির কলম ধরিয়ে দিয়ে
পরিত্যক্ত আবর্জনার পাশে
বসিয়ে রাখলেও ধন্য হবো।
যত ইচ্ছা পচা ডিম সাথে না-রেখে ছুড়ে দিন,-
-যেখান থেকেই ছোড়া হোক
পেতে চাই নিজের কাছে।
--আসুক যত খুশি নষ্ট ডিম আঘাতে বা প্রতিঘাতে।
হাসতে হাসতে ছুড়ে দিন ঢিল,-
যদি কখনো বিনাশ্রমে আসে-!--
-বিনামূল্যে পাওয়া, অমূল্য ঐ পচা ডিমের ছোঁয়ায়
দুর্বল এ দেহখানা সবলতা পেতে পারে আশা করা যায় ॥
উপস্থিত ধনবানদের সমাগমে যা’ কিছু বলা হয়,-
সবটুকুই, --‘অভয়’-;
এই শ্রেষ্ঠ ধনবানের কাহিনীগুলো
আত্মপ্রতারণাময় কোনো সান্ত্বনার প্রলেপন নয়।
--এপর্যন্ত যত বকবক্ বকবক্ বুলি অথবা প্রলাপ,
যা’ কিছু শুনলাম অথবা যা’ কিছু বললাম
--বুঝে কিংবা না-বুঝে,
--যত শব্দ উচ্চারিত হ’লো,
--তার একটি বর্ণও অসত্য নয়।
শুরুতেই বলেছি,--
-বিনিময়ের সাজানো কাহিনীগুলো,
--বাস্তবের অবাস্তব অথবা
পরাবাস্তবের সত্য ঘটনাগুলো,-শিরোনামে
সংক্ষেপে শুরুতেই তো বলা হয়েছে,--
প্রকাশমান আমার অসুরক্ষিত জীবনের চিন্তন,-
--চিরন্তন সম্ভাবনাময় ঘটনাগুলো,
--ঘটেনি, --কিন্তু ঘটতে পারতো


-২০/০৮/২০০১ খ্রি: